Tuesday, October 23, 2012

Hearing the shape of a drum

একেক ধরনের বস্তুতে টোকা দিলে একেক রকম শব্দ হয়। গাণিতিকভাবে দেখলে, শব্দের এই ভিন্নতাটাকে ব্যাখ্যা করা যায় তাদের স্পেক্ট্রাম বা ফুরিয়ার কোইফিশিয়েন্টের পার্থক্য থেকে। (এই ব্যাপারটার কারণেই একেকজনের কন্ঠ একেক রকম হয়, এবং আমরা কন্ঠ শুনেই তাদের পার্থক্য করতে পারি)। তো প্রশ্নটা হলো, কোনো বস্তুর স্রেফ এই শব্দ শুনেই কি বস্তুটির আকার পুরোপুরি অনুমান করা সম্ভব? জ্ঞানের এই শাখাকে বলে "স্পেক্ট্রাল জিওমেট্রি"।

মজার ব্যাপার হলো, ভ্যাকুয়াম ফ্লাক্সুয়েশনকে কোয়ান্টাম ফিল্ডের একরকম শব্দ ভাবা যেতে পারে। এবং শেই শব্দ শুনে, পুরো স্পেসটাইমের শেইপটা অনুমান করা "হয়তো" সম্ভব। আর গ্রাভিটি হচ্ছে, বিভিন্ন বস্তুর প্রভাবে কিভাবে স্পেসটাইম কার্ভ হচ্ছে, তার হিসাব নিকাশ। ওদিকে ভ্যাকুয়াম ফ্লাক্সুয়েশনকে সহজেই (ইন প্রিন্সিপ্যাল) কোয়ান্টাম কম্পিউটারে মডেল করা সম্ভব। এবং এভাবে কোয়ান্টাম গ্রাভিটিকে ট্যাক্ল করা যেতে পারে।

সমীকরণগুলো স্বভাবতই বেশ জটিল। কিন্তু ছোট খাট অবজেক্টের ক্ষেত্রে পার্টারবেটিভ মেথডে, শব্দ শুনে মূল আকৃতি খুঁজে বের প্রোগ্রাম করা হয়েছে। এবং এখনও পর্যন্ত করা সকল নিউমেরিক্যাল সিমুলেশনেই বস্তুর মূল আকৃতি খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়েছে। এসব বিষয়ে পরে লিখবো। 

Thursday, October 18, 2012

একটু খানি কম্পিউটার বিজ্ঞান

এখন বেশ রাত হয়ে গেছে, এমন সময় আমার মাথায় সাধারণত চমৎকার কোনো আইডিয়া আসে না। নিচের লেখাগুলো আসলে লিখেছি এই লাইনটা লেখার আগেই। একটা বই যদি এই রেসিপি অনুযায়ী লেখা হয়। তাহলে খুবই বোরিং হবে। অন্যরকম ভাবে ভাবতে হবে। মূল কথা হলো, কম্পিউটার বিজ্ঞান সম্পর্কে হাই স্কুল লেভেলের শিক্ষার্থীদের একটা ধারণা দেওয়া। কম্পিউটার বিজ্ঞান নিয়ে আমি যতটা উদ্দিপনা বোধ করি, সেটা পাঠকের সাথে শেয়ার করে নেওয়া। যাই হোক, নাই মামার চেয়ে কানামামা যেহেতু ভালো সেহেতু, নিচের লেখাগুলো রেখে দিচ্ছি। আমার বই টা "কি নয়" অন্তত সেটার একটা তালিকা হয়ে থাক! হা হা হা .....

কম্পিউটার ও কম্পিউটার বিজ্ঞান
এই অধ্যায়টা এমন ভাবে লিখতে হবে যেন কম্পিউটার সম্পর্কে মৃদু কৌতুহল আছে কিন্তু কোনো রকম ব্যাকগ্রাউন্ড নেই তেমন পাঠক এটাকে বুঝতে পারে। এবং কম্পিউটারের জগত সম্পর্কে আগ্রহী ও কৌতূহলি হয়ে ওঠে।
আলোচ্য বিষয়ে থাকতে পারে
১) কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং কি
২) তাত্তবিক কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং এর পার্থক্য।
৩) কম্পিউটার বিজ্ঞানের নানান শাখা ও বাস্তবজীবনে তাদের অবদান।
৪) এ বিষয়ে গবেষণার সুযোগ। দেশ বিদেশে সুপরিচিত আমাদের দেশের কম্পিউটার গবেষকরা।
৫) ক্যারিয়ার পাথ।

প্রোগ্রামিং
প্রোগ্রামিং বোঝাতে একটা গেইম এর কথা ভাবা যেতে পারে।
দুই বন্ধুর মধ্যে একজন শুধু ভাগ করতে জানে। অন্য বন্ধুটি তাকে লাল আর সবুজ কার্ডে লিখে দুইটি নাম্বার (ভাজ্য ও ভাজক) দেবে। দিলেই সে এদের ভাগশেষ জানিয়ে দেবে। পরে বন্ধুটি লাল কার্ডে সবুজ কার্ডের নাম্বারটা লিখে আর সবুক কার্ডে নতুন নাম্বারটা দিয়ে আবার আগের বন্ধুর হাতে দেবে। এভ্য এক সময় আগের বন্ধুটি ভাগশেষ শূন্য জানাবে। তখন অ্যালগরিদম টার্মিনেট করেছে বলে ধরে নেওয়া হবে ।

এই অ্যালগরিদমের সঠিকথার প্রমাণ দেওয়া হবে অধ্যায়টির লেখাটির শেষে।
অধ্যায়ের শুরুতে আমাদের অ্যালগরিদম চ্যাপ্টারের মত ক্রে ধাপে ধাপে অ্যালগরিদম।
এর পরে একটা ফ্লো চার্টের মাধ্যমে সেটা দেখানো হবে।
এর পর সুডোকোড লিখে দেখানো হবে।
এর পর এই প্রোগ্রাম সি, বা পাইথনে করে দেখানো হবে।

কম্পিউটারের ভাষা
এখানে প্রসেসরের গঠন। তথ্য কিভাবে এক আর শুন্যের সাহায্যে প্রকাশ করা হয় ইত্যাদি দেখানো হবে। এবং এই কম্পিউটারকে দিয়ে কাজ করানোর জন্য কিভাবে বাইনারি মেশিন ল্যাংগুয়েজ ব্যবহৃত হয়। সেখান থেকে কিভাবে অ্যাসেম্ব্লি ল্যাংগুয়েজ হয়ে হাইলেভেল প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ তৈরি করা হয় সেসব।




Monday, October 15, 2012

ছয় ধাপে অ্যালগরিদম

১
অ্যালগরিদম চারিদিকে,

যোগের অ্যালগরিদম
গুণ, ভাগ, ইন্টিগ্রেশন, ডিফারেন্সিয়েশন ইত্যাদির অ্যালগরিদম।

ছবি এঁকে অ্যালগরিদম। (ফ্লো চার্ট)

কার্ডে লিখে লিখে গসাগু গণনা। যেখানে এক বন্ধুকে লাল কার্ড আর সবুজ কার্ডে সংখ্যা দুটি লিখে দিলে সে ভাগ করে অবশিষ্ট জানিয়ে দেয়।

গুণ করতে পারলে একটা সংখ্যা তালিকা থেকে বলে দেওয়া কিছু সংখ্যা বাদ দিয়ে বাকি সংখ্যাগুলো দ্রুত গুণ করে বলতে পারা।

একাধিক অ্যালগরিদমের মধ্যে কোনটি সেরা। 

Monday, October 1, 2012

এখনই যা করা দরকার


অনেক কিছুর টানাপেড়নে দ্বিভগ্ন-ত্রিভগ্ন হয়ে আছি। এই মুহুর্তে কি কি করা দরকার ভাবি।
১ এনট্রপি নিয়ে নিলসেন চুয়াং এর  চ্যাপ্টারটা পড়া দরকার।
২ পিসিপি থিওরেমটা পড়া দরকার
৩ পি আর এল এ প্রকাশিত স্টেট ডিস্ক্রিমিনেশন পেপারটা পড়া দরকার
৪ ফাইনম্যানের বই থেকে পরবর্তি চ্যাপ্টার পড়া দরকার
৫ আমার পেপারটার ফাইনাল প্রুফ জমা দেওয়া দরকার
৬ বিচ্ছিন্ন গণিতের অন্তত দুটো অনুচ্ছেদ লেখা দরকার
৭ গেমথিওরির উপর লেখা বইটা পড়ে শেষ করা দরকার
৮ কোয়ান্টাম কম্পিউটিং নিয়ে আর্টিকেলটা শেষ করা দরকার
৯ দেশে পোলাপাইনদের খোঁজ নেওয়া দরকার।

বাঙালি - হুমায়ূন আজাদ

ছেলেবেলায় ছড়া শুনেছিলাম, বাঙালি মানুষ নয়, জন্তু। শুনে নিজের জাতি সম্পর্কে সন্দেহ জেগেছিলো; তবে বিশ্বাস হারাই নি। মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো নাকি পাপ; আর একটা পুরো জাতির ওপর বিশ্বাস হারানো তো মহাপাপ। ছেলেবেলায় অতো বড়ো পাপের সাহস হয় নি। রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘সপ্তকোটি সন্তানেরে হে মুগ্ধ জননী/রেখেছ বাঙালি ক’রে মানুষ করো নি।’ এখানে ‘বাঙালি’ শব্দটির অর্থ কী? অন্নপায়ী বঙ্গবাসী স্তন্যপায়ী জীবদের জ্বালায় কি অত্যন্ত অতিষ্ঠ হয়েছিলেন বাঙালির মহাকবি? শেষ জীবনে কেনো তিনি জানিয়ে গেলেন, বাঙলায় আর নয়? যদি আবার জন্ম নিতে হয়, তাহলে হেথা নয়, হেথা নয়, অন্য কোথা, অন্য কোনোখানে। বাঙলায় নয়। বাঙালির চরিত্র দেখে দেখে ঘেন্না ধ’রে গিয়েছিলো তাঁর মনে। জীবনানন্দ শালিকটালিক হয়ে জন্মাতে চেয়েছিলেন, বাঙালি হিশেবে নয়। বিদ্যাসাগর শেষ জীবনে বাঙালির ওপর বিশ্বাস হারাতে হারাতে মানুষের ওপরেই বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলেন। বঙ্কিমচন্দ্র ঈশ্বর গুপ্তকে বলেছিলেন ‘খাঁটি বাঙালি’ কবি। খাঁটি হওয়া খুব ভালো, তবে তিনি এও জানিয়ে দিয়েছিলেন, বাঙলার অবস্থা আবার অধঃপতনের দিকে না গেলে খাঁটি বাঙালি কবি ‘জন্মাবে না, জন্মিয়া কাজ নাই’। দেখতে পাচ্ছি প্রধান বাঙালিরা সবাই বিরূপ বাঙালির ওপর। নিশ্চয়ই বাঙালির কোনো অসামান্য প্রতিভা রয়েছে, যা এমনভাবে হতাশ, বিরূপ, অবিশ্বাসী করে মহৎদের। মিলটনের স্বর্গচ্যুতি মহাকাব্যে স্বর্গ থেকে বহিস্কৃত শয়তান বঙ্গোপসাগর এলাকা দিয়েই নেমেছিলো পৃথিবীতে। ওই প্রথম পতনের সংস্পর্শ কি বাঙালিকে চির অধঃপতিত করে রেখেছে? মালার্মে একটি কবিতায় এমন একটি পাখির কথা বলেছেন, যার বিলুপ্তি আসন্ন। ওই পাখিকে তিনি তুলনা করেছেন বাঙালির সাথে। বাঙালি কি তবে সেই নিয়তিদণ্ডিত জাতি, যার ভাগ্যে রয়েছে শুধু নিন্দা, আর অবলুপ্তি?


পৃথিবীর প্রতিটি জাতিরই কোনো-না-কোনো সদগুণ রয়েছে। স্বাতন্ত্রিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ওই বৈশিষ্ট্য তাকে পৃথক ক’রে রাখে অন্যান্য জাতি থেকে, ক’রে রাখে বিশিষ্ট। বাঙালির কি অমন কোনো বৈশিষ্ট্য রয়েছে? রয়েছে কোনো সদগুণ? তেমন কোনো বৈশিষ্ট্য সম্ভবত বাঙালির নেই। বাঙালির চরিত্রে গুণের থেকে দোষের পরিমাণ যে অনেক বেশি তাতে সন্দেহ নেই। এ জন্যেই তার প্রধান পুরুষেরা বিরূপ তার ওপর। মধুসূদন কি বাঙালি ছিলেন, বাঙালি ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ? বিদ্যাসাগর কি বাঙালি ছিলেন, বাঙালি ছিলেন বাঙলার অন্যান্য মহাপুরুষ? মনে হয় তাঁরা বাঙালি ছিলেন না। বাঙালি জাতির প্রধান পুরুষ বা মনীষী তাঁরাই, যাঁরা পেরিয়ে যেতে পেরেছিলেন বাঙালিত্বকে। তাই প্রধান বাঙালি হ’তে হ’লে হ’তে হবে অবাঙালি। হয়তো চরিত্র অর্জন করতে হবে জর্মনের, বা ইংরেজের, জাপানির বা চীনের, ফরাশির বা মার্কিনের বা রুশির। খাঁটি বাঙালি হয়ে মহৎ বাঙালি হওয়া অসম্ভব। বাঙালি বলতে বোঝায় সামান্যতা, হীনতা, তুচ্ছতা। তার চরিত্রের বদগুণের বীজ কিলবিল করে।


কী কী মুক্তোয় খচিত সোনার বাঙালির সোনার চরিত্রটি? বাঙালির চরিত্রমুকুটের কোহিনূর কোনটি বলা মুশকিল, প্রতিটিই রঙে শোভায় আকারে হারিয়ে দিতে চায় প্রতিটিকে। তাই ঐসব মণিমুক্তোর তালিকা ক্রম রেখে তৈরি করা কঠিন। খুব বড়ো ধরনের গবেষণাপ্রকল্প দরকার। বাঙালি মিথ্যুক। মিথ্যা ব’লে চালিয়ে দিতে পারলে সত্য বলার কষ্টটুকু করবে না। বাঙালি প্রতারক। প্রতারণা করতে পারলে বাঙালি বিশেষ তৃপ্তি পায়। আরেকটি প্রতারককে ঠকাতে পারা কি অসামান্য সুখ আর গৌরবের কথা নয়? ব্যবসায় তো প্রতারণাই ধর্ম। দলবেধে ব্যবসায় নেমে বাঙাল এবং একজন অন্যদের ঠকিয়ে বাড়িগাড়ি করে। দু-দিন আগে মুদি দোকান থেকে বাসায় একটি ঠোঙা আসে। তাতে লেখা একটি চিঠি। পত্রলেখক লিখেছেন, ‘আপনার সঙ্গে আর ব্যবসা করিব না। নামাজ-রোজা করেন দেখিয়া ভাবিয়াছিলাম আপনি সৎ। এখন দেখিলাম আপনি অসৎ। আগামী কাল আমার মালগুলি ফিরত দিবেন। নইলে ভালো হইবে না’। প্রতারণা চলছে দিকে দিকে, প্রতারণা ছাড়া বাঙালির ঘরে আলো জ্বলে না। বাঙালি ভণ্ড। ভণ্ডামোতে একশো নম্বর দিতে হবে তাকে। যা বিশ্বাস করে না, তা অবলীলায় ব’লে যাবে। আমলা কবিদের কবিতা প’ড়ে দেখুন। কী দারুণ বিপ্লবী আর প্রগতিশীল তারা। স্যার, স্যার বলতে বলতে থুতু উপচে পড়ছে; কিন্তু কবিতা লিখতে বসলেই বিদ্রোহী, প্রতিবাদী। জনগণের সাথে একাত্ম। বাঙালি চিন্তা করে, চিৎকার করে। আসুন বিশ্ববিদ্যালয়ের বারান্দায়, দেখবেন ইলশের বাজারকে ছাড়িয়ে গেছে জ্ঞানকেন্দ্রের করিডোর। অফিসে যান, দেখবেন নিজের টেবিলে কেউ নেই; দোস্তের টেবিলে ব’সে গলা ফুলিয়ে চিৎকার ক’রে চলেছে দায়িত্বশীল বাঙ্গালিগণ।


বাঙালি অলস; বাঙালি ফাঁকি দিতে পারলে ধন্য বোধ করে। কাউকে একটা কাজ দিয়ে চ’লে আসুন, দেখবেন সেটির ওপর কেমন দায়িত্ব পালন চলছে। তাড়া না দিলে এ-গাধা চলে না। লোভের কথা বলবো? লোভে তো লকলক করে বাঙালির সমস্ত শরীর। শরীরটাই একটা বড়ো জিভ হয়ে ওঠে। বাঙালি স্বৈরাচারী ও ক্রীতদাস। ওপরে যে আছে, তার মতো শক্তিমান আর কেউ নেই। তার কথাই শেষ। সে সব জানে, সব বোঝে। নিয়মগুলো তৈরি হয়েছে শুধু সে খানখান ক’রে ভেঙে ফেলবে ব’লে। যাচ্ছেতাই না করতে পারলে শক্তির প্রকাশ কোথায়? প্রতিটি অফিসে একেকজন অসামরিক জেনারেল ব’সে আছেন। বাহুতে বুকে শেলাইকরা তারাটারা নেই, কিন্তু শতোশতো তারা জ্বলছে ব্যক্তিত্বে। অফিসের বড়োবাবুকে সম্মান জানাতে হয়; ‘স্যার’ বলতে হয়। আজকার তার তাতে চলছে না, তাই ‘শ্রদ্ধেয় স্যার’ বলতে হয়। না ব’লে উপায় নেই, নিচের সবাই দাস। জনগণের পয়সায় কেনা দাস। আবেদনপত্র লিখতে হ’লেই সম্বোধন করতে হয় ‘মাননীয়’, ‘মহামান্য’। যে-কোনো অফিসের বড়োসাহের সচিবালয়ের বড়োসাহেবের কাছে গেলেই আবার ক্রীতদাস। লেজ নড়তে থাকে, লেজ নড়তে থাকে। ডারউইনি লেজটি তার মুখগহ্বরে। অন্যরা বানরের বংশধর হ’তে পারে, বাঙালি প্রভুভক্ত জীবের বংশধর; তবে বাঙালি প্রভুভক্ত নয়। বাঙালি মিথ্যুক প্রতারক, ভণ্ড, অলস, স্বৈরাচারী, ক্রীতদাস, চিৎকারপরায়ণ, কাপুরুষ, লোভী, পরশ্রীকাতর, নিন্দুক, গোপনে কামুক প্রকাশ্যে সন্ত, নির্লজ্জ, অসুস্থ, চক্রান্তপরায়ণ, বিশ্বাসঘাতক, দায়িত্বহীন, সময়জ্ঞানহীন, অবিবেচক, নির্মম, অমানবিক, অনুদার, অসৎ, পরপীড়ক, অগণতান্ত্রিক, বিলাসী, খল, যুক্তিহীন বাচাল এবং আরো একশো একটি মুক্তোর সমষ্টি। এ-জন্যেই হয়তো পরাধীন থেকেছে শতাব্দীর পর শতাব্দী। যে-ই বিদেশ থেকে হানা দিয়েছে, তার কাছে আত্মসমর্পণ করেছে বাঙালি। মধ্যযুগে খুব বড়ো বাঙালির পরিচয় বিশেষ পাওয়া যায় না। বড়ো বাঙালিরা আবির্ভূত হতে থাকে উনিশশতকে।


উনিশশতকই হচ্ছে মহৎ বাঙালিদের শতাব্দী। এই মহতেরা কীভাবে জন্মালেন? এর একটা কারণ সম্ভবত ইংরেজদের সংস্পর্শ। ইংরেজের চরিত্রের যে-প্রচণ্ড শক্তি, তার কিছুটা সংক্রামিত হয়েছিলো বিদ্যাসাগর, রামমোহন, মধুসূদন, রবীন্দ্রনাথ ও আরো কারো কারো চরিত্রে। খাঁটি বাঙালিরা মহৎ বাঙালি নয়, বাঙলার বিবর্তনে তাদের কোনো অবদান নেই। বিশশতকেও যাঁরা প্রধান হয়েছেন, তাঁরা খাঁটি বাঙালি নন, তাঁদের মধ্যেও ইউরোপীয় চরিত্রের মিশেল রয়েছে। সুভাষ বসু বাঙালি? মনে হয় জাপানি বা জর্মন। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বাঙালি? বাঙালি হ’লে তো দু’একটি ছিঁচকে বই লিখেই শিষ্যদের মুখে মুখে অমর মনীষী হয়ে যেতেন। তিনি যে-বিশাল বই লেখার দুঃসাহস দেখালেন, এতে তাঁকে জর্মন না মনে ক’রে উপায় নেই। এমন উচ্চাভিলাষ কি বাঙালির আছে! বাঙালি ক্ষুদ্র এবং চারপাশের সবকিছুকে ক্ষুদ্র ক’রে রাখতে চায়। এর প্রমাণ পাই বাঙালির প্রিয় প্রবাদে। ভূয়োদর্শী প্রবাদপ্রণেতা পরামর্শ দিয়েছেন, বেশি বড়ো হয়ো না ঝড়ে ভেঙে পড়বে, বেশি ছোটো হয়ো না ছাগলে খেয়ে ফেলবে। বাঙালি আকাশচুম্বী হবে না, তার দর্শন ছাগলের নাগালের ওপরে ওঠা। কিন্তু অধিকাংশই উঠতে পারে না। বাঙালি, তুমি কবে তোমার চরিত্রের মুক্তোগুলো খুইয়ে মানুষ হবে?

হুমায়ূন আজাদের এই লেখাটি সংগ্রহ করেছি Anik Andalib-এর ফেসবুক পাতা থেকে। 

Wednesday, September 5, 2012

বিচ্ছিন্ন গণিত - ৩

আস্তে আস্তে লিখে ফেলার পরিকল্পনা করেছি। সমস্যা হচ্ছিলো লেখার মাধ্যম নিয়ে। পুরাতন ল্যাপটপটা অকেজো হয়ে পড়ে আছে কিছুদিন। আমার আলস্যেই ঠিক করা হচ্ছে না। এদিকে ম্যাক এ বাংলা অঙ্কুর ব্যবহার করি। এটা বাংলা থেকে ইংরেজীতে সুইচ করার কীবোর্ড শর্টকাট খুঁজে পাইনি। ফলে গণিত টেক্সটে ফর্মূলা গুলো কিভাবে বসাবো তাই নিয়ে বিপদে পড়ে গেছিলাম। বাক্যের মধ্যে অনেকবার ইংরেজী কীবোর্ডে যেতে হবে।
কিন্তু সমাধানটা হাতের কাছেই ছিলো। উইকিপিডিয়া। বাংলা উইকিপিডিয়ার ওয়েব ফর্মে নানান রকম কীবোর্ড আছে। এবং সেখানে কীবোর্ড শর্টকাট ব্যবহার করে বাংলা/ইংরেজি টগল করা যায়। এমনকি ল্যাটেক ফরম্যাটে লিখলে ইকুয়েশনও রেন্ডার করতে পারে। ভাবছি ঐ ওয়েব ফর্মকেই আমার এডিটর হিসাবে ব্যবহার করবো।

একটা জিনিস বুঝতে পারছি। গণিত বই সাহিত্যের মত করে লিখলে হবে না। মানে গল্প লেখার সময় যেমন, একটা ফ্লোর মধ্যে লিখে ফেলে মানুষ পরে মাইনর পরিবর্তন করে। গণিতে এটা করা যাবে না। প্রথম ইটারেশনে এসেনশিয়াল জিনিসগুলো লিখতে হবে। মানে, একেবারে কাঠখোট্টা একটা পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা। এভাবে একটা অধ্যায়ের ফ্রেমওয়ার্ক দাড়িয়ে গেলে, নিজিস্ব চিন্তা, উদাহরণ, ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ যোগ ককরতে হবে।

যাইহোক, লেখা নিয়ে আমার থিওরীস্ট বনাম এক্স্পেরিমেন্টালিস্ট ধরণের এক রকম খেলা চলবে মনে হচ্ছে। হয়তো লিখতে বসে আবিষ্কার করবো এই পদ্ধতি ভালো মত কাজ করছে না। তখন নতুন প্ল্যান অফ অ্যাকশন বের করতে হবে। দেখা যাক। 

Monday, August 27, 2012

বিচ্ছিন্ন গণিত - ২

একটা সময় পর্যন্ত আমি খুব আগ্রহ করে পাবলিক ব্লগে লিখেছি। এখনো ইচ্ছাটা আছে, কিন্তু নানা কারনে আগ্রহটা কমে গেছে। যাকগে সে আলাপ পরে। আপাতত এই পোস্টটা লিখছি, ভাবনা গুছিয়ে নেওয়ার জন্য। কারণ, " লেখা হচ্ছে গুছিয়ে ভাবা"। বইয়ের অধ্যয়ায় গুলো যেভাবে সাজানো হবে সেই ক্রমেই লিখতে হবে তেমন কোনো কথা নেই। বই লেখাটা হচ্ছে সিনেমা বানানোর মত। যখন যে শট নিলে অপটিমাল হয় সেটা নিয়ে রাখতে হবে। পরে সাজিয়ে গুছিয়ে কেটে ছিড়ে মিলিয়ে একটা সুন্দর বই বানিয়ে ফেললেই হলো। ইনফ্যাক্ট সিনেমাকে অনেকে ব- ই বলে। হা হা হা!

শুরু করতে হবে সেট দিয়ে। তারপর রিলেশন, ফাংশন, ওয়েল অর্ডারিং প্রিনসিপাল, ইনডাকশন, ক্লোজার, ইকুইভ্যালেন্স ক্লাস এভাবে এগোবে।

সেট- সেটকে ফান্ডামেন্টাল ম্যাথমেটিক্যাল অবজেক্ট হিসাবে বর্ণনা করতে হবে। সেট নিয়ে মজার মজার, প্রবলেম দেওয়া যেতে পারে। টাইপ-সেট আপাতত এম এস ওয়ার্ডেই করবো। ইকুয়েশনগুলো হাতে একটা ডায়েরীতে লিখে রাখতে হবে। বইয়ের লেখায় স্রেফ কথাগুলো থাকবে। ইকুয়েশনগুলোর জন্য প্লেস হোল্ডার রেখে দেব। পরে হয়তো ল্যাটেকে টাইপসেট করবো। এই পোস্টে যে বিষয়গুলোর কথা লিখলাম সেগুলো লেখা শেষ হলে বন্ধুদেরকে কপি দেওয়া যেতে পারে। একটা ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট ও চালু করতে হবে। কিন্তু এখন ওসব নিয়ে ভাবতে চাচ্ছি না।

একটা সময় পর্যন্ত ভাবতাম এমন বই লিখতে হবে যেটা সবার কাজে লাগবে। কিন্তু পৃথিবীর কোনো বইই "সবার" কাজে লাগে না। এমন কি সব কম্পিউটার বিজ্ঞানী-ইঞ্জিনিয়ার-প্রোগ্রামার হতে ইচ্ছুকরাও উপকৃত হবে সেটা ভাবারো কারণ নেই। একটা পার্টিকুলার বিষয়ের জন্য প্রস্তুত মাইন্ডসেটের পার্টিকুলার শতাংশ মানুষ থাকে। আমাদের দেশে কোটি কোটি মানুষ হওয়ার সুবিধা হলো, এই পারসেণ্টেজ যতই কম হোক, মোট সংখ্যাটা কম নয়। এবং এদের অনেকেই হয়তো রিসোর্সের অভাবে এগোতে পারছে না। তাদের লক্ষ্য করেই লেখা হবে বইঅটা। সব কিছু শিখিয়ে ফেলার বদলে, একটা স্মুথ স্টার্টিং পয়েন্ট দেওয়াটাই লক্ষ্য। এগুলো ভালো লাগলে, এবন শিখতে পারলে "ধারণার" অংশটা কিছুটা পরিণত হবে। তখন তারা বড় বড় এবং আরো সুন্দর সব বই নিজে থেকেই পড়তে পারবে বলে মনে করি। শুধু এটুকু কন্ট্রিবিউট করাটাই উদ্দেশ্য।